জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোরতা : বাস্তবায়নই এখন চ্যালেঞ্জ
- আপলোড সময় : ৩০-০৩-২০২৬ ০৭:২৩:৪১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৩-২০২৬ ০৭:২৩:৪১ পূর্বাহ্ন
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই - সরকারের এমন আশ্বাসের পরও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারপ্রধান তারেক রহমান অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- এই নির্দেশ কতটা কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে?
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে জ্বালানি খাত অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কৃষি, শিল্প, পরিবহন - সবকিছুই এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সামান্য অস্থিরতাও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সরকার যখন জানাচ্ছে যে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নিয়মিত আমদানি অব্যাহত আছে, তখন বাজারে সংকটের চিত্র স্পষ্টতই কৃত্রিম। এটি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।
বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুললেও অভ্যন্তরীণ বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এটি রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই চোরাচালান, অবৈধ মজুত ও সিন্ডিকেট - এই তিনটি দিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি জোরদার করতে হবে।
সরকার প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করছে। এই অবস্থায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যদি মুনাফার লোভে বাজারকে অস্থির করে তোলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অভিযান চালানো নয়, বরং অভিযানের ফল দৃশ্যমান হওয়াই বেশি জরুরি। অতীতে দেখা গেছে, অনেক সময় এমন অভিযান সাময়িক প্রভাব ফেললেও পরে আবার একই চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই চক্র ভাঙতে হলে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় নজরদারির নির্দেশ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে তা যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি, যাতে কেউ অপ্রয়োজনে তেল মজুত না করে।
সবশেষে বলা যায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রশংসনীয়। তবে এ লড়াইয়ে সফল হতে হলে প্রয়োজন অব্যাহত নজরদারি, শক্তিশালী আইন প্রয়োগ এবং সর্বস্তরের সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় সংকটের এই চক্র ভাঙা কঠিন হয়ে পড়বে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়